সংবাদ শিরোনাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার আওয়ামী পরিবারের একজন প্রচার যুদ্ধা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষারের জন্ম মাগুরা জেলায়। শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে এইচ.এস.সি সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯৭-১৯৯৮ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মঈনুদ্দিন বাবুর ডানহাত হিসেবে পরিচিতি হাসান জাহিদ তুষার হলে থাকা অবস্থায় ছাত্রদল-শিবিরের বিরুদ্ধে অনেক লড়াই করেছিলেন।

হাসান জাহিদ তুষারের সাহসী ভূমিকার জন্য ২০০১ সালের ১ লা অক্টোবর নির্বাচনের পর ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নিয়ে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল একমাত্র ছাত্রলীগের দখলে ছিল। ১ লা অক্টোবর নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের প্রথম যে মিছিল হয় ১২/১৩ জনের সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করে খালেদা-নিজামীর নীল নকশার নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদ করেন তিনি। ১৩ নভেম্বর ২০০১ সালে ছাত্রদলের হাজার হাজার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হল দখলে রাখার সশস্ত্র সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি‌ মঈনুদ্দিন বাবুর সাথে অংশগ্রহন করেন তিনি। ঐদিন ছাত্রদল শিবির সার্জেন্ট জহুরুল হক হল দখল করে তুষারের রুমের কম্পিউটারসহ সবকিছু পুড়িয়ে দেয়। তারপর তার বিরুদ্ধে ঐ সময় হুলিয়া জারি করে।

২০০২ এ বিবিসি বাংলা সার্ভিসে কাজ করার সময় তৎকালীন বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী এবং প্রক্টর নজরুল ইসলাম, হাসান জাহিদ তুষারকে বিবিসি বাংলা সার্ভিস থেকে পদত্যাগে বাধ্য করাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে হাসান জাহিদ তুষার সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লেখনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখে। ছাত্রদল ও হাওয়া ভবনের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লেখার জন্য ২০০৩ সালের ৩০ জুলাই মধ্যরাতে হাওয়া ভবনের প্রেতাত্মা তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল-শিবির ক্যাডাররা তুষারের উপর হামলা চালায়। তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রাস্তায় মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা তুষারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এলিফ্যান্ট রোডের সিটি জেনারেল হাসপাতালে এনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা করান।
২০০২-২০০৬ পর্যন্ত হাসান জাহিদ তুষার সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি-জামায়াত নেতাদের অত্যাচার-নির্যাতন অপশাসন ও দুষ্কর্ম সেগুলির বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ এবং ডকুমেন্ট শেখ হাসিনার কাছে সুধাসদনে পৌছে দিতেন। ১/১১ সময় আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতারের আগেও বিভিন্ন ডকুমেন্ট শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করেছেন তিনি।
হাওয়া ভবনে ছাত্রদল-শিবিরের ৩০০ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ২১ জন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগের নিউজ করে আওয়ামী লীগের জন্য ২০০৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামাত প্রশাসনের বিরুদ্ধে এবং হাওয়া ভবনের দলীয় নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে লিখে দলকে সাহায্য করেছেন তিনি। ১/১১ এর সময় সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিশেষ করে বিভিন্ন জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তুলতে সাংবাদিক হিসেবে দলীয় কর্মীর ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। বিরোধী দলে থাকাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিবিড় ভাবে কাজ করেছেন তিনি।
১/১১ এর সময় দলের ত্যাগী নেতাদের পাশে বিশেষ করে জিল্লুর রহমান, বেগম মতিয়া চৌধুরী ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন তিনি। জীবন বাজি রেখে তুষার বিরোধী দল এবং ১/১১ এর সময় দলের জন্য ও শেখ হাসিনার জন্য কাজ করেছেন।‌
দল ক্ষমতায় আসলে ডেইলি স্টার থেকে নানান বঞ্চনা উপেক্ষা করে সরকার এবং দলের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে গেছেন তিনি। হাসান জাহিদ তুষার ২০১৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে অত্যন্ত ডেডিকেশন এবং কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

হাসান জাহিদ তুষার সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে নিজ এলাকা মাগুরায় চারজন ভূমিহীন মানুষকে সম্পন্ন ব্যক্তি উদ্যোগে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। তাছাড়াও করোনা ভাইরাস চলাকালীন সময়ে ৮৫০ জন মানুষকে ঈদ-উল-ফিতরের আগে ও পরে দুই দফায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন। শীতে অগণিত হতদরিদ্র মানুষকে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন তিনি।

লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে ও কোন প্রচার প্রচারণা না করেই শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ভালবেসে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোসহীন হাসান জাহিদ তুষার; সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।